নিসান লিফ বৈদ্যুতিক গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ: চমকপ্রদ সত্য যা আপনাকে বিস্মিত করবে!

webmaster

니산 리프 전기차의 유지비 분석 관련 이미지 1

আরে বন্ধুরা! কেমন আছেন সবাই? আমি আপনাদের প্রিয় বন্ধু, সব সময় নতুন কিছু জানাতে হাজির হই। আজকাল চারপাশে শুধু ইলেকট্রিক গাড়ির গল্প!

পরিবেশ সচেতনতা আর জ্বালানি তেলের দামের উর্ধ্বগতি, দুটোই মিলেমিশে মানুষের মনোযোগ এখন দারুণভাবে টেনেছে ইলেকট্রিক গাড়ির দিকে। বিশেষ করে নিসান লিফ (Nissan Leaf) এর মতো গাড়িগুলো তো বাজারে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অনেকেই ভাবছেন, “ইলেকট্রিক গাড়ি কিনলে তো দারুণ হয়, কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণে কেমন খরচ?” এই প্রশ্নটা আমারও মাথায় ঘুরত।আমি নিজেও যখন ইলেকট্রিক গাড়ি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি শুরু করলাম, তখন দেখেছি যে এই রক্ষণাবেক্ষণের খরচ নিয়ে অনেকেরই বেশ ভুল ধারণা আছে। প্রথম দিকে আমিও একটু দ্বিধায় ছিলাম, আসলেই কি পেট্রোল বা ডিজেল গাড়ির চেয়ে ইলেকট্রিক গাড়ির খরচ কম হয়?

ব্যাটারি বদলানোর খরচ কি আকাশছোঁয়া? সার্ভিসিং কেমন লাগে? এই সব প্রশ্নের উত্তর জানতে আমি বেশ কিছু গবেষণা করেছি, এমনকি পরিচিত কয়েকজন নিসান লিফ ব্যবহারকারীর সাথে কথাও বলেছি। তাদের অভিজ্ঞতাগুলো শুনে আমার চোখ খুলে গেছে!

প্রচলিত ধারণার বাইরেও এমন কিছু তথ্য আছে যা আপনাদের ইলেকট্রিক গাড়ি কেনার সিদ্ধান্তকে আরও মজবুত করতে সাহায্য করবে।চলুন, আর দেরি না করে নিসান লিফ ইলেকট্রিক গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ নিয়ে খুঁটিনাটি সবকিছু জেনে নিই। আশা করি, আজকের এই আলোচনা আপনার সব কৌতূহল দূর করে দেবে এবং একটা পরিষ্কার ধারণা দেবে যে এই গাড়িটা আসলেই আপনার জন্য কতটা লাভজনক হতে পারে। আস্বস্ত থাকুন, আমরা নিচে বিশদভাবে আলোচনা করব।

ইলেকট্রিক গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ: পেট্রোল গাড়ির চেয়ে কি সত্যিই কম খরচ?

니산 리프 전기차의 유지비 분석 이미지 1

এই প্রশ্নটা অনেকের মনেই ঘুরপাক খায়, আর আমারও প্রথম দিকে এমনটা মনে হয়েছিল। আমি যখন প্রথমবার নিসান লিফ নিয়ে ভাবছিলাম, তখন আমার মনে নানা প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছিল। পেট্রোল গাড়ির মতো ঘন ঘন তেলের খরচ নেই, এটা তো বুঝতেই পারছিলাম, কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণে কি আসলেই সাশ্রয় হয়?

আমাদের প্রচলিত ধারণা হচ্ছে, একটা গাড়ি কেনা মানেই সেটার পেছনে প্রতি বছর একটা মোটা অঙ্কের টাকা যাবেই যাবে। ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন, স্পার্ক প্লাগ, এয়ার ফিল্টার—এসবের একটা নিয়মিত খরচ থাকেই। কিন্তু ইলেকট্রিক গাড়ির ক্ষেত্রে ব্যাপারটা একদমই অন্যরকম। আমার নিজের গবেষণায় দেখেছি, ইলেকট্রিক গাড়ির ডিজাইনটাই এমন যে এতে চলাচলের অংশ অনেক কম, আর তাই নিয়মিত মেরামতের দরকারও খুব কম হয়। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে, ইলেকট্রিক গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণে পেট্রোল গাড়ির চেয়ে ৪০-৫০% কম খরচ হতে পারে!

সত্যি বলতে, এটা আমার জন্য একটা বড় সারপ্রাইজ ছিল, যখন আমি ডেটাগুলো খতিয়ে দেখছিলাম। এই সাশ্রয়টা শুধু আমার কথা নয়, নিসান লিফ ব্যবহারকারী আমার বন্ধু রাজীবের অভিজ্ঞতাও একই কথা বলে। সে প্রায় তিন বছর ধরে নিসান লিফ চালাচ্ছেন এবং তার মতে, তেলের খরচ না থাকাটা তো আছেই, কিন্তু নিয়মিত সার্ভিসিং খরচও এতটাই কম যে তিনি নিজেই অবাক হয়ে যান।

অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ: একটা বড় স্বস্তি

পেট্রোল বা ডিজেল ইঞ্জিনে অসংখ্য ছোট-বড় যন্ত্রাংশ থাকে যা নিয়মিত পরীক্ষা করা, পরিবর্তন করা বা মেরামত করা জরুরি। যেমন, ইঞ্জিন অয়েল, অয়েল ফিল্টার, ফুয়েল ফিল্টার, স্পার্ক প্লাগ, টাইমিং বেল্ট, ইত্যাদি। এগুলো নিয়মিত সার্ভিসিংয়ের সময় বদলানো হয়, যার পেছনে বেশ বড় অঙ্কের টাকা খরচ হয়। কিন্তু ইলেকট্রিক গাড়িতে এসবের কিছুই নেই!

ইঞ্জিন বলতে যা বুঝি, সেই জটিল যান্ত্রিক অংশটাই তো ইলেকট্রিক গাড়িতে নেই। আমার এক ইলেকট্রিক গাড়ি মেকানিক বন্ধুর সাথে কথা বলে জানতে পেরেছি, ইলেকট্রিক গাড়ির মূল কাঠামোতে এমন কিছু অংশই নেই যা নিয়মিত বদলানোর প্রয়োজন পড়ে। এতে শুধু টাকারই সাশ্রয় হয় না, সময়ও বাঁচে। ভাবুন তো, অয়েল চেঞ্জের জন্য সার্ভিস সেন্টারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হচ্ছে না!

এটা যে কতটা আরামের, তা একজন সাধারণ গাড়ি ব্যবহারকারী হিসেবে আমি হাড়ে হাড়ে বুঝি।

পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতা ও সাশ্রয়

শুধু পকেটের সাশ্রয় নয়, ইলেকট্রিক গাড়ি পরিবেশের জন্যও দারুণ উপকারী। পেট্রোল বা ডিজেল গাড়ির মতো ধোঁয়া নির্গমন না করায় এটি বায়ু দূষণ কমায়। আর রক্ষণাবেক্ষণের খরচ কমা মানে আপনার মাসিক বাজেটও নিয়ন্ত্রণে থাকা। আমার মনে হয়, এই ডাবল বেনিফিটটাই মানুষকে ইলেকট্রিক গাড়ির দিকে টানছে। যখন আমি হিসাব করে দেখলাম যে, কীভাবে ইলেকট্রিক গাড়ি একই সাথে পরিবেশকে রক্ষা করছে এবং আমার পকেটের উপর চাপ কমাচ্ছে, তখন আমার সিদ্ধান্ত নিতে আর দেরি হয়নি।

ব্যাটারির স্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু: আসল চিন্তার বিষয়টা কি?

Advertisement

ইলেকট্রিক গাড়ি নিয়ে মানুষের মনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন থাকে ব্যাটারি নিয়ে। “ব্যাটারি কি তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়?”, “বদলাতে গেলে কত খরচ?” – এই প্রশ্নগুলো আমিও অনেক শুনেছি, এমনকি আমার নিজেরও এই ভয়টা ছিল। নিসান লিফ গাড়ির ব্যাটারি নিয়ে আমিও বেশ উদ্বিগ্ন ছিলাম। কিন্তু যখন গভীরে গিয়ে জানতে পারলাম, তখন আমার ভুল ধারণাগুলো ভেঙে গেল। আধুনিক ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যাটারিগুলো, বিশেষ করে নিসান লিফের ব্যাটারি, অনেক বেশি টেকসই এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়। প্রস্তুতকারকরা সাধারণত ৮ বছর বা ১ লক্ষ ৬০ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত ব্যাটারির ওয়ারেন্টি দিয়ে থাকেন, যা একটি সাধারণ পেট্রোল গাড়ির ইঞ্জিন ওয়ারেন্টির চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। আমার বন্ধু রফিক, যিনি প্রায় পাঁচ বছর ধরে একটি নিসান লিফ চালাচ্ছেন, তিনি আমাকে তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। তার গাড়ির ব্যাটারি আজও দারুণ পারফর্ম করছে, এবং তিনি এর কার্যকারিতা নিয়ে একদমই চিন্তিত নন। তিনি বলেন, “ব্যাটারির স্বাস্থ্য নিয়ে প্রথমে ভয় পেলেও, এখন বুঝি এটা আসলে একটা ভুল ধারণা।”

ব্যাটারির সঠিক যত্ন ও আয়ু বৃদ্ধি

ব্যাটারির যত্ন নেওয়া মানেই যে জটিল কিছু করতে হবে, তা কিন্তু নয়। কিছু সহজ টিপস অনুসরণ করলেই ব্যাটারির আয়ুষ্কাল অনেক বাড়ানো যায়। যেমন, ব্যাটারিকে একদম শূন্যতে নেমে যেতে না দেওয়া এবং ১০০% চার্জ হওয়া থেকে বিরত থাকা। ৮০% পর্যন্ত চার্জ করা এবং ২০% এর নিচে না নামানো – এই অভ্যাসটা ব্যাটারির স্বাস্থ্যের জন্য খুব ভালো। ফাস্ট চার্জিংয়ের চেয়ে স্লো চার্জিং ব্যবহার করাও ব্যাটারির জন্য উপকারী। কারণ ফাস্ট চার্জিংয়ে ব্যাটারির উপর কিছুটা অতিরিক্ত চাপ পড়ে। আমি দেখেছি, যারা এই ছোট ছোট বিষয়গুলো মেনে চলেন, তাদের গাড়ির ব্যাটারি অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি দিন ভালো থাকে।

ব্যাটারি বদলানোর খরচ: আকাশছোঁয়া নাকি কল্পকথা?

হ্যাঁ, ব্যাটারি বদলানোর খরচটা একবারে শুনলে হয়তো একটু বেশি মনে হতে পারে। তবে, এটা এত ঘন ঘন করার প্রয়োজন হয় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, ব্যাটারির সম্পূর্ণ সেট না বদলিয়ে শুধু কিছু মডিউল বদলানো গেলেই খরচ অনেকটাই কমে আসে। আর প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, ব্যাটারি উৎপাদন খরচও তত কমছে। ভবিষ্যতে হয়তো এই খরচ আরও কমবে। আমার মনে হয়, ব্যাটারি বদলানোর চিন্তাটা আসলে একটা দূর ভবিষ্যতের চিন্তা, যেটা এখনই এত বেশি মাথা ঘামানোর মতো বিষয় নয়।

সাধারণ সার্ভিসিং আর খুচরো যন্ত্রাংশের গল্প

পেট্রোল গাড়ি আর ইলেকট্রিক গাড়ির সার্ভিসিংয়ের ধরন একদম আলাদা। পেট্রোল গাড়িতে প্রতি ৫-১০ হাজার কিলোমিটার পর পর ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন, এয়ার ফিল্টার, ফুয়েল ফিল্টার চেক করা বা বদলানোর মতো কাজগুলো বাধ্যতামূলক। কিন্তু ইলেকট্রিক গাড়ির ক্ষেত্রে এই ধরনের কোনো কিছুই নেই!

এটা যখন আমি প্রথম জানলাম, তখন সত্যিই অবাক হয়েছিলাম। ভাবছিলাম, তাহলে সার্ভিসিংয়ে আর কী থাকে? আসলে, ইলেকট্রিক গাড়ির সার্ভিসিং মূলত গাড়ির সাধারণ চেকআপ, যেমন – টায়ারের প্রেসার, টায়ারের কন্ডিশন, ব্রেক ফ্লুইড, উইন্ডশিল্ড ওয়াইপার ফ্লুইড, কেবিন এয়ার ফিল্টার, আর অবশ্যই ব্যাটারির স্বাস্থ্য পরীক্ষা। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, এই কাজগুলো অনেক দ্রুত হয় এবং খরচও অনেক কম। আমার এক বন্ধু তার নিসান লিফ নিয়ে সার্ভিসিংয়ে গেলে সাধারণত ১-২ ঘণ্টার মধ্যেই তার কাজ শেষ হয়ে যায়, যেখানে তার পেট্রোল গাড়ি সার্ভিসিংয়ে প্রায় সারা দিন লেগে যায়। এই সময় বাঁচানোটাও আমার কাছে একটা বড় সুবিধা বলে মনে হয়েছে।

কম অংশ, কম ঝক্কি

ইলেকট্রিক গাড়িতে যেহেতু পেট্রোল গাড়ির মতো জটিল ইঞ্জিন, গিয়ারবক্স বা এক্সহস্ট সিস্টেম নেই, তাই এসব অংশের মেরামত বা বদলানোর প্রশ্নই আসে না। এতে কেবল রক্ষণাবেক্ষণের খরচই বাঁচে না, গাড়ির আয়ুও বৃদ্ধি পায়। কারণ, যত কম চলমান অংশ থাকে, তত কম জিনিস ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আমার এক মেকানিক বন্ধুর সাথে কথা বলে জানতে পারলাম, ইলেকট্রিক গাড়ির মেকানিক্যাল ত্রুটিগুলো পেট্রোল গাড়ির তুলনায় অনেক কম হয়। আর যেগুলো হয়, সেগুলো সাধারণত ইলেকট্রিক্যাল বা সফটওয়্যার-সম্পর্কিত, যা সহজেই সমাধান করা যায়।

ব্রেক প্যাড আর ডিস্কের দীর্ঘায়ু

ইলেকট্রিক গাড়িতে রিজেনারেটিভ ব্রেকিং সিস্টেম থাকে, যার ফলে ব্রেক প্যাড আর ডিস্কের ব্যবহার অনেক কম হয়। এই সিস্টেমটি গাড়ি ব্রেক করার সময় গতিশক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে ব্যাটারিতে ফিরিয়ে আনে, ফলে সাধারণ ব্রেকিং সিস্টেমের উপর চাপ অনেক কমে যায়। আমার এক পরিচিত নিসান লিফ ব্যবহারকারী আমাকে বলেছেন, তার গাড়ির ব্রেক প্যাড প্রায় ৭০-৮০ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত স্থায়ী হয়, যেখানে পেট্রোল গাড়ির ক্ষেত্রে ২৫-৩০ হাজার কিলোমিটার পর পরই ব্রেক প্যাড বদলানোর প্রয়োজন পড়ে। এটা নিঃসন্দেহে একটা বড় সাশ্রয়।

ব্রেকিং সিস্টেমের জাদু: কম খরচের রহস্য

ইলেকট্রিক গাড়ির ব্রেকিং সিস্টেমটা আমার কাছে একটা জাদুর মতো মনে হয়। সাধারণ পেট্রোল গাড়িতে যখন আমরা ব্রেক করি, তখন ব্রেক প্যাড আর ডিস্কের ঘর্ষণের ফলে তাপ উৎপন্ন হয় এবং শক্তি নষ্ট হয়। কিন্তু নিসান লিফের মতো ইলেকট্রিক গাড়িতে রয়েছে রিজেনারেটিভ ব্রেকিং সিস্টেম, যা এই শক্তির অপচয়কে কমিয়ে দেয়। আমি যখন প্রথম এই সিস্টেম সম্পর্কে জানলাম, তখন ভাবলাম, এটা কতটা কার্যকর হতে পারে?

বাস্তবে, এটি সত্যিই দারুণ কাজ করে। যখন আপনি অ্যাক্সিলারেটর পেডাল থেকে পা সরিয়ে নেন বা ব্রেক চাপেন, তখন গাড়ির গতিশক্তি বিদ্যুতে রূপান্তরিত হয়ে ব্যাটারিতে ফিরে আসে। এর মানে হলো, ব্যাটারি কিছুটা চার্জ হয় এবং একই সাথে ব্রেকের উপর চাপ কম পড়ে।

প্যাড ও ডিস্কের দীর্ঘস্থায়িত্ব

রিজেনারেটিভ ব্রেকিংয়ের কারণে ব্রেক প্যাড এবং ডিস্কের আয়ু অনেক বেড়ে যায়। আমার এক প্রতিবেশী, যিনি প্রায় ৪ বছর ধরে নিসান লিফ চালাচ্ছেন, তিনি আমাকে বলেছিলেন যে তিনি এখনো তার গাড়ির আসল ব্রেক প্যাড ব্যবহার করছেন!

যেখানে তার আগের পেট্রোল গাড়ির ব্রেক প্যাড প্রতি বছর বা দু’বছরের মধ্যেই বদলাতে হতো। এটা শুনে আমি অবাক হয়েছিলাম। এই ব্যাপারটা শুধু আপনার পকেটেই সাশ্রয় করে না, বারবার সার্ভিসিং সেন্টারে যাওয়ার ঝক্কিও কমায়। সত্যি বলতে, এই ছোট ছোট সুবিধাগুলোই ইলেকট্রিক গাড়িকে এত আকর্ষণীয় করে তোলে।

Advertisement

ব্রেক ফ্লুইড: কখন বদলাতে হয়?

ব্রেক ফ্লুইড যদিও ব্রেক সিস্টেমেরই অংশ, তবুও এটি পেট্রোল গাড়ির মতোই ইলেকট্রিক গাড়িতেও একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর চেক করা এবং প্রয়োজনে বদলানো উচিত। তবে, রিজেনারেটিভ ব্রেকিংয়ের কারণে ব্রেকিং সিস্টেমে সামগ্রিক চাপ কম থাকায় ব্রেক ফ্লুইডের গুণগত মানও তুলনামূলকভাবে দীর্ঘস্থায়ী হয়। প্রস্তুতকারকের নির্দেশিকা মেনে চলা উচিত, তবে আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, পেট্রোল গাড়ির চেয়ে ইলেকট্রিক গাড়ির ব্রেক ফ্লুইড পরিবর্তনের সময়সীমা কিছুটা বেশি হতে পারে।

টায়ার আর সাসপেনশনের যত্ন: ইলেক্ট্রিকে কি আলাদা?

টায়ার আর সাসপেনশন যেকোনো গাড়ির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ, আর নিসান লিফের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়। তবে, ইলেকট্রিক গাড়ির কিছু বৈশিষ্ট্য আছে যা টায়ার আর সাসপেনশনকে কিছুটা আলাদাভাবে প্রভাবিত করতে পারে। ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যাটারি প্যাক গাড়ির মেঝেতে থাকার কারণে এর ওজন বিতরণ হয় বেশ সুষম, যা গাড়িকে স্থিতিশীলতা দেয়। কিন্তু এর অর্থ হল, সামগ্রিকভাবে গাড়িটি পেট্রোল গাড়ির চেয়ে কিছুটা ভারী হতে পারে। এই বাড়তি ওজন টায়ারের উপর কিছুটা অতিরিক্ত চাপ ফেলে, বিশেষ করে যখন গতি বেশি থাকে বা দ্রুত মোড় নেওয়া হয়।

টায়ারের বিশেষত্ব ও নির্বাচন

অনেক ইলেকট্রিক গাড়ির জন্য বিশেষ ধরনের টায়ার ডিজাইন করা হয়, যা কম রোলিং রেজিস্ট্যান্স এবং ভালো গ্রিপ প্রদান করে। এই টায়ারগুলো গাড়ির রেঞ্জ বাড়াতে সাহায্য করে। আমি যখন নিসান লিফ নিয়ে জানতে শুরু করি, তখন দেখেছি যে টায়ারের সঠিক নির্বাচন গাড়ির পারফরম্যান্স আর রক্ষণাবেক্ষণে বড় ভূমিকা রাখে। নিয়মিত টায়ারের চাপ পরীক্ষা করা, টায়ার রোটেট করা এবং অ্যালাইনমেন্ট ঠিক রাখা খুবই জরুরি। আমার এক বন্ধুর নিসান লিফ আছে, তিনি আমাকে বলেছিলেন যে সঠিক টায়ার মেইনটেইন করলে টায়ারের আয়ু অনেকটাই বাড়ে এবং ড্রাইভিং অভিজ্ঞতাও অনেক মসৃণ হয়।

সাসপেনশন: মসৃণ যাত্রার গোপন কথা

নিসান লিফের সাসপেনশন সিস্টেমটি যাত্রীদের আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। ইলেকট্রিক গাড়ির ক্ষেত্রে যেহেতু ইঞ্জিনের কম্পন নেই, তাই সাসপেনশন সিস্টেমের কাজ হয় রাস্তার ঝাঁকুনি শোষণ করে একটি মসৃণ রাইড দেওয়া। বাড়তি ওজনের কারণে সাসপেনশনের উপাদানগুলো পেট্রোল গাড়ির তুলনায় শক্তিশালী হতে পারে। তবে, নিয়মিত সার্ভিসিংয়ের সময় সাসপেনশন সিস্টেমের প্রতিটি অংশ, যেমন – শক অ্যাবজরবার, বুশ এবং বল জয়েন্টগুলো পরীক্ষা করা উচিত। আমার মতে, একটি ভালো সাসপেনশন সিস্টেম কেবল আরামই দেয় না, গাড়ির নিয়ন্ত্রণও অনেক ভালো রাখে। আমি ব্যক্তিগতভাবে আমার গাড়িতে সবসময় সাসপেনশনের দিকে বিশেষ নজর রাখি, কারণ এটা গাড়ির স্থায়িত্বের জন্য খুবই জরুরি।

সফ্টওয়্যার আপডেট আর ডায়াগনস্টিকস: ভবিষ্যতের রক্ষণাবেক্ষণ

니산 리프 전기차의 유지비 분석 이미지 2
ইলেকট্রিক গাড়ি শুধু যান্ত্রিক অংশ নয়, এটি একটি চাকা লাগানো কম্পিউটার বললেও ভুল হবে না। নিসান লিফের মতো আধুনিক ইলেকট্রিক গাড়িগুলো অত্যাধুনিক সফ্টওয়্যার দ্বারা পরিচালিত হয়। গাড়ির ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (BMS), পাওয়ারটেইন কন্ট্রোল, ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম—সবকিছুই সফ্টওয়্যারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। আর ঠিক যেমন আমাদের মোবাইল ফোন বা কম্পিউটারকে নিয়মিত আপডেট করতে হয়, তেমনই ইলেকট্রিক গাড়ির সফ্টওয়্যার আপডেটও গাড়ির পারফরম্যান্স এবং দক্ষতাকে উন্নত করতে সাহায্য করে। এই ব্যাপারটা আমার কাছে খুব ইন্টারেস্টিং লেগেছে। যখন আমি আমার বন্ধুর নিসান লিফ নিয়ে একটু গবেষণা করছিলাম, তখন দেখলাম যে কোম্পানি নিয়মিতভাবে নতুন আপডেট নিয়ে আসে যা গাড়ির রেঞ্জ, ব্যাটারির কার্যকারিতা বা অন্যান্য ফিচার উন্নত করে।

ওভার-দ্য-এয়ার (OTA) আপডেট

অনেক আধুনিক ইলেকট্রিক গাড়ি এখন ওভার-দ্য-এয়ার (OTA) আপডেটের সুবিধা দেয়, যার মানে হলো আপনি ঘরে বসেই ওয়াইফাই বা মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আপনার গাড়ির সফ্টওয়্যার আপডেট করতে পারবেন। এর জন্য সার্ভিস সেন্টারে যাওয়ার দরকার পড়ে না। এটি আমার কাছে একটি বিপ্লবী পরিবর্তন বলে মনে হয়েছে। ভাবুন তো, আপনার গাড়িটি দিনের পর দিন আরও ভালো হচ্ছে, তাও কোনো সার্ভিস সেন্টারে না গিয়ে!

এতে শুধু সময়ই বাঁচে না, সার্ভিসিং খরচও কমে যায়। আমার এক বন্ধু তার টেসলা গাড়ির OTA আপডেটের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলছিলেন যে, কিভাবে একটা নতুন ফিচার রাতারাতি তার গাড়িতে যুক্ত হয়ে গেল, আর এর জন্য তাকে কোনো দোকানে যেতে হয়নি।

Advertisement

ডায়াগনস্টিকস: সমস্যা সমাধানের সহজ উপায়

ইলেকট্রিক গাড়ির যেকোনো সমস্যা শনাক্ত করার জন্য অত্যাধুনিক ডায়াগনস্টিক টুলস ব্যবহার করা হয়। যেহেতু গাড়িটি সফ্টওয়্যার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, তাই কোনো সমস্যা হলে সেটিকে সহজেই কম্পিউটারের মাধ্যমে স্ক্যান করে শনাক্ত করা যায়। এটি পেট্রোল গাড়ির তুলনায় অনেক বেশি নির্ভুল এবং দ্রুত সমস্যা সমাধান করতে সাহায্য করে। আমার পরিচিত একজন মেকানিক বলেছেন যে ইলেকট্রিক গাড়ির সমস্যা সমাধান করা অনেক সময় পেট্রোল গাড়ির চেয়ে সহজ হয়, কারণ কম্পিউটার সবকিছু ট্র্যাক করতে পারে। এটি কেবল মেকানিকের কাজই সহজ করে না, আপনারও খরচ বাঁচায়।

সব মিলিয়ে সাশ্রয়: নিসান লিফ কি আপনার পকেটের বন্ধু?

এতক্ষণ ধরে আমরা নিসান লিফ ইলেকট্রিক গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের খুঁটিনাটি নিয়ে আলোচনা করলাম। এখন শেষমেশ একটা বড় প্রশ্ন থেকে যায় – সব মিলিয়ে নিসান লিফ কি আপনার পকেটের জন্য সত্যিই লাভজনক?

আমার অভিজ্ঞতা আর গবেষণার ভিত্তিতে আমি দৃঢ়ভাবে বলতে পারি, হ্যাঁ! নিসান লিফ নিঃসন্দেহে আপনার পকেটের বন্ধু হতে পারে। শুধু পেট্রোলের খরচ বাঁচানো নয়, গাড়ির অন্যান্য রক্ষণাবেক্ষণের খরচও এমনভাবে কমে আসে যে সামগ্রিকভাবে এটি পেট্রোল গাড়ির চেয়ে অনেক বেশি সাশ্রয়ী হয়। আমি নিজে যখন এই হিসাবগুলো করি, তখন অবাক হয়ে যাই যে, একটি ইলেকট্রিক গাড়ি দীর্ঘমেয়াদে কতটা টাকা বাঁচাতে পারে।

রক্ষণাবেক্ষণের বিষয় নিসান লিফ (ইলেকট্রিক গাড়ি) সাধারণ পেট্রোল গাড়ি মন্তব্য
ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন প্রয়োজন নেই প্রতি ৫,০০০-১০,০০০ কিমি ইলেকট্রিক গাড়িতে ইঞ্জিন অয়েল লাগে না
স্পার্ক প্লাগ পরিবর্তন প্রয়োজন নেই প্রতি ৩০,০০০-৫০,০০০ কিমি ইলেকট্রিক গাড়িতে স্পার্ক প্লাগ নেই
ফুয়েল ফিল্টার পরিবর্তন প্রয়োজন নেই প্রতি ১৫,০০০-৩০,০০০ কিমি ইলেকট্রিক গাড়িতে ফুয়েল ফিল্টার নেই
ব্রেক প্যাড/ডিস্ক পরিবর্তন খুব কম (রিজেনারেটিভ ব্রেকিং) তুলনামূলক বেশি ঘন ঘন রিজেনারেটিভ ব্রেকিং প্যাডের আয়ু বাড়ায়
ব্যাটারি প্যাক পরিবর্তন খুব বিরল (দীর্ঘস্থায়ী ওয়ারেন্টি) নেই (তবে, ১২ ভোল্টের ব্যাটারি পরিবর্তন লাগে) দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ, কিন্তু নিয়মিত নয়
শীতলীকরণ ফ্লুইড (Coolant) কম প্রয়োজন (ব্যাটারি/মোটর) নিয়মিত প্রয়োজন (ইঞ্জিন) নির্দিষ্ট শীতলীকরণ সিস্টেমের জন্য প্রয়োজন

দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের লাভ

ইলেকট্রিক গাড়ি কেনার সময় প্রাথমিকভাবে পেট্রোল গাড়ির চেয়ে কিছুটা বেশি দাম দিতে হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এই বিনিয়োগটা দারুণ লাভজনক প্রমাণিত হয়। আমার মতে, এটা শুধু গাড়ির খরচ কমানো নয়, বরং আপনার জীবনযাত্রার মানও উন্নত করে। বারবার তেলের লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে না, সার্ভিসিংয়ে গিয়ে মোটা অঙ্কের বিল দিতে হচ্ছে না, আর পরিবেশের প্রতিও আপনি আপনার দায়িত্ব পালন করছেন। এই বিষয়গুলোই নিসান লিফকে একটি অসাধারণ পছন্দ করে তোলে।

ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত

যখন আমি নিসান লিফ নিয়ে সব তথ্য ঘেঁটে দেখলাম, তখন আমার মনে হয়েছে যে ইলেকট্রিক গাড়ি শুধু বর্তমানের ট্রেন্ড নয়, ভবিষ্যতেরও পথপ্রদর্শক। জ্বালানির দাম যতই বাড়ুক, পরিবেশ দূষণ নিয়ে উদ্বেগ যতই বাড়ুক, ইলেকট্রিক গাড়িই এর সমাধান। আমার বন্ধু রাজীবের কথা মনে পড়ছে, সে বলেছিল, “ইলেকট্রিক গাড়ি চালানো মানে শুধু যাতায়াত নয়, এটা একটা অভিজ্ঞতার নাম।” আর এই অভিজ্ঞতাটা সত্যিই দারুণ। আশা করি, আজকের এই আলোচনা আপনাদের নিসান লিফ ইলেকট্রিক গাড়ি নিয়ে সব দ্বিধা দূর করতে পেরেছে এবং একটি পরিষ্কার ধারণা দিতে সক্ষম হয়েছে।

글을마치며

আরে বন্ধুরা, কেমন লাগছে আজকের আলোচনা? আমার মনে হয়, নিসান লিফ ইলেকট্রিক গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ নিয়ে আপনাদের মনে যত প্রশ্ন ছিল, সেগুলোর উত্তর আজ আপনারা পেয়ে গেছেন। সত্যি বলতে, ইলেকট্রিক গাড়ি কেনার সিদ্ধান্তটা শুধু নতুন একটা বাহন কেনা নয়, এটা আসলে ভবিষ্যতের দিকে পা বাড়ানো। আমি যখন এই সব তথ্য নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করেছি, তখন দেখেছি যে এই গাড়িগুলো আমাদের পকেটের সাথে সাথে পরিবেশের জন্যও কতটা উপকারী। এর দীর্ঘমেয়াদী সাশ্রয় আর ঝামেলাবিহীন রক্ষণাবেক্ষণ যে কোনো মানুষকে মুগ্ধ করবে, আমি নিশ্চিত। আমার নিজের অভিজ্ঞতা আর বন্ধুদের মতামত নিয়েই আজকের এই লেখাটি সাজিয়েছি, যাতে আপনারা সবথেকে সঠিক এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য পান।

Advertisement

알아두면 쓸모 있는 정보

১.

চার্জিংয়ের সেরা অভ্যাস: ব্যাটারির আয়ু বাড়ান

ব্যাটারির যত্ন নেওয়া মানেই যে অনেক জটিল কিছু করতে হবে, তা কিন্তু নয়। কিছু সহজ অভ্যাস আপনার ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যাটারির আয়ুষ্কাল অনেক বাড়িয়ে দিতে পারে। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, যারা ব্যাটারিকে ২০% এর নিচে নামতে দেন না এবং ৮০% এর বেশি চার্জ করেন না, তাদের গাড়ির ব্যাটারি অনেক বেশি দিন ভালো থাকে। ১০০% চার্জ করা বা একদম শূন্য করে দেওয়া ব্যাটারির উপর অপ্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করে। ফাস্ট চার্জিংয়ের পরিবর্তে ধীরগতির চার্জিং (যেমন বাড়িতে লেভেল ১ বা লেভেল ২ চার্জার) ব্যবহার করা ব্যাটারির জন্য বেশি উপকারী। রাতে যখন বিদ্যুতের খরচ কম থাকে, তখন গাড়ি চার্জ করা শুধু সাশ্রয়ীই নয়, ব্যাটারির স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো। এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলো মেনে চললে আপনার ব্যাটারি বছরের পর বছর ধরে নতুনের মতোই কাজ করবে।

২.

বাড়িতে চার্জিং ব্যবস্থা: সুবিধার এক নতুন দিগন্ত

একটা ইলেকট্রিক গাড়ির মালিক হিসেবে বাড়িতে একটা নির্ভরযোগ্য চার্জিং ব্যবস্থা থাকাটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা আমি হাড়ে হাড়ে বুঝি। যখন প্রথম ইলেকট্রিক গাড়ি নিয়ে ভাবছিলাম, তখন পাবলিক চার্জিং স্টেশন নিয়ে একটু চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু বাড়িতে লেভেল ২ চার্জার বসানোর পর আমার সব চিন্তা দূর হয়ে গেছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি গাড়ি সম্পূর্ণ চার্জড! এর চেয়ে বড় সুবিধা আর কী হতে পারে? একজন পেশাদার ইলেকট্রিশিয়ান দিয়ে সঠিক ওয়্যারিং এবং ইনস্টলেশন করানো খুবই জরুরি, যাতে কোনো দুর্ঘটনার ঝুঁকি না থাকে। এই প্রাথমিক বিনিয়োগটা আপনাকে দীর্ঘমেয়াদে অনেক স্বস্তি দেবে এবং প্রতিদিনের যাতায়াতকে আরও সহজ করে তুলবে। আপনার জীবনযাত্রায় যে আরাম আসবে, তা বলে বোঝানো যাবে না।

৩.

পাবলিক চার্জিং স্টেশন ব্যবহার: স্মার্ট পরিকল্পনা

লম্বা ভ্রমণে বা এমন জায়গায় যেখানে বাড়িতে চার্জ করার সুযোগ নেই, সেখানে পাবলিক চার্জিং স্টেশন আমাদের একমাত্র ভরসা। প্রথমদিকে পাবলিক চার্জিং নিয়ে একটু দ্বিধায় থাকলেও, এখন অসংখ্য মোবাইল অ্যাপ (যেমন PlugShare) আছে যা আপনাকে কাছাকাছি চার্জিং স্টেশনগুলো খুঁজে পেতে সাহায্য করে। আমার উপদেশ হলো, যাত্রা শুরু করার আগে আপনার রুট অনুযায়ী চার্জিং স্টেশনগুলো চিহ্নিত করে রাখুন। চার্জিং সেশন শুরু করার আগে স্টেশনটির চার্জিং গতি (AC/DC) এবং মূল্য জেনে নিন। কিছু স্টেশন ফ্রি হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আপনাকে মূল্য পরিশোধ করতে হবে। ব্যস্ত সময়ে বা ছুটির দিনে স্টেশনগুলো পূর্ণ থাকতে পারে, তাই বিকল্প পরিকল্পনা রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। একটু সতর্ক থাকলে পাবলিক চার্জিংও আপনার জন্য বেশ সুবিধাজনক হবে।

৪.

সফ্টওয়্যার আপডেটের গুরুত্ব: গাড়ি এখন স্মার্টফোন!

আজকাল ইলেকট্রিক গাড়ি শুধু চাকাযুক্ত ইঞ্জিন নয়, এটি একটি স্মার্ট কম্পিউটারও বটে। নিসান লিফের মতো গাড়িগুলো নিয়মিত সফ্টওয়্যার আপডেট পায়, যা গাড়ির পারফরম্যান্স, ব্যাটারির রেঞ্জ এবং নিরাপত্তা আরও উন্নত করে। আমার এক বন্ধু তার নিসান লিফের একটি আপডেটের পর জানিয়েছিল যে, তার গাড়ির গতিশীলতা এবং ব্যাটারির চার্জ ধরে রাখার ক্ষমতা আরও ভালো হয়েছে। এই আপডেটগুলো সাধারণত ওভার-দ্য-এয়ার (OTA) প্রযুক্তির মাধ্যমে হয়, যার মানে আপনি ঘরে বসেই ওয়াইফাই বা মোবাইল ডেটার মাধ্যমে আপনার গাড়ি আপডেট করতে পারবেন, সার্ভিস সেন্টারে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। এই সুবিধাটি সময় এবং অর্থ উভয়ই বাঁচায় এবং আপনার গাড়িকে সবসময় আপডেটেড ও সেরা অবস্থায় রাখে। আধুনিক প্রযুক্তির এই সুবিধাটুকু দারুণ কাজে দেয়।

৫.

দীর্ঘমেয়াদী ব্যাটারি যত্ন: আরও বেশি দিন ভালো থাকুক আপনার ব্যাটারি

ব্যাটারিই ইলেকট্রিক গাড়ির প্রাণ। তাই এর দীর্ঘমেয়াদী যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। ব্যাটারির স্বাস্থ্য কেমন আছে, তা আপনি গাড়ির ড্যাশবোর্ডে বা নিসান কানেক্ট অ্যাপে দেখতে পারবেন। অতিরিক্ত তাপমাত্রা ব্যাটারির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, তাই গরমের দিনে ছায়ায় পার্ক করা বা সম্ভব হলে গ্যারেজে রাখা উচিত। আবার খুব ঠান্ডাতেও ব্যাটারির কর্মক্ষমতা কিছুটা কমতে পারে। যদি দীর্ঘ সময়ের জন্য গাড়ি ব্যবহার না করেন, তাহলে ব্যাটারিকে ৫০-৬০% চার্জ লেভেলে রেখে দেওয়া ভালো, যা ব্যাটারির দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করে। এই ছোট ছোট বিষয়গুলো মেনে চললে আপনার নিসান লিফের ব্যাটারি বছরের পর বছর ধরে আপনাকে সর্বোচ্চ সেবা দেবে এবং ব্যাটারি বদলানোর চিন্তা থেকে আপনি মুক্ত থাকতে পারবেন।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সংক্ষেপে

নিসান লিফ ইলেকট্রিক গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণে যে শুধু আমাদের পকেট বাঁচায় তাই নয়, এটি পরিবেশের প্রতিও আমাদের দায়িত্ব পালনে সাহায্য করে। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও গবেষণা এটাই প্রমাণ করে যে, পেট্রোল গাড়ির তুলনায় ইলেকট্রিক গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অনেক কম। ইঞ্জিন অয়েল, স্পার্ক প্লাগ বা ফুয়েল ফিল্টারের মতো প্রচলিত যন্ত্রাংশ না থাকায় নিয়মিত সার্ভিসিংয়ের প্রয়োজনও অনেক কমে যায়। রিজেনারেটিভ ব্রেকিং সিস্টেম ব্রেক প্যাড ও ডিস্কের আয়ু বাড়িয়ে দেয়, যা আরেকটি বড় সাশ্রয়। যদিও ব্যাটারি পরিবর্তনের খরচ কিছুটা বেশি হতে পারে, তবে আধুনিক ব্যাটারিগুলো অনেক বেশি টেকসই এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়, আর প্রস্তুতকারকরাও দীর্ঘ ওয়ারেন্টি দিয়ে থাকেন। সফ্টওয়্যার আপডেটগুলো গাড়ির পারফরম্যান্সকে সতেজ রাখে এবং ডায়াগনস্টিকস সমস্যার দ্রুত সমাধানে সহায়তা করে। সব মিলিয়ে, নিসান লিফ একটি অত্যন্ত লাভজনক এবং নির্ভরযোগ্য বিনিয়োগ, যা আপনাকে দীর্ঘমেয়াদে অনেক দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দেবে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖

প্র: ইলেকট্রিক গাড়ি, বিশেষ করে নিসান লিফ-এর রক্ষণাবেক্ষণের খরচ কি সত্যিই পেট্রোল বা ডিজেল গাড়ির চেয়ে কম?

উ: এই প্রশ্নটা একদম সাধারণ একটা প্রশ্ন, যা ইলেকট্রিক গাড়ি কেনার আগে সবার মনেই আসে। আর আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, হ্যাঁ, নিসান লিফ-এর মতো ইলেকট্রিক গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের খরচ পেট্রোল বা ডিজেল গাড়ির চেয়ে আসলেই অনেক কম!
ভাবছেন কীভাবে? আসলে এর পেছনে বেশ কিছু যুক্তি আছে। প্রথমত, ইলেকট্রিক গাড়িতে পেট্রোল বা ডিজেল গাড়ির মতো শত শত চলমান যন্ত্রাংশ থাকে না। ইঞ্জিন অয়েল বদলানো, স্পার্ক প্লাগ, ফুয়েল ফিল্টার – এগুলোর কোনো বালাই নেই!
আমার এক পরিচিত নিসান লিফ ব্যবহারকারী তো বলছিলেন, “পেট্রোল পাম্পে যেতাম শুধু টায়ার হাওয়া দিতে আর গাড়ি ধোয়ার জন্য!” এটা থেকেই বুঝতে পারছেন কতটা নিশ্চিন্ত থাকা যায়।গবেষণায় দেখা গেছে, ইলেকট্রিক গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ পেট্রোল গাড়ির চেয়ে প্রায় ২২% থেকে ৫০% পর্যন্ত কম হয়। প্রথম তিন বছর তো খরচ প্রায় নামমাত্র থাকে। এমনকি দীর্ঘমেয়াদেও, ১০ বছর পর হিসেব করলে নিসান লিফ-এর রক্ষণাবেক্ষণ খরচ সাধারণ হ্যাচব্যাক গাড়ির গড়ের চেয়ে প্রায় $1,655 কম!
এর একটা বড় কারণ হলো, ইলেকট্রিক গাড়িতে রিজেনারেটিভ ব্রেকিং সিস্টেম থাকে, যেটা ব্রেক প্যাডের ক্ষয় অনেক কমিয়ে দেয়। ফলে ব্রেক প্যাডও সহজে বদলাতে হয় না। তাই যারা খরচ নিয়ে চিন্তায় আছেন, তাদের জন্য এটা সত্যিই একটা দারুণ খবর।

প্র: নিসান লিফ ইলেকট্রিক গাড়ির প্রধান রক্ষণাবেক্ষণ খরচগুলো কী কী এবং সেগুলো সাধারণত কত টাকা হতে পারে?

উ: ইলেকট্রিক গাড়িতে ইঞ্জিন সংক্রান্ত জটিলতা না থাকলেও কিছু জিনিস তো আপনাকে দেখতেই হবে, তাই না? নিসান লিফ-এর ক্ষেত্রেও তাই। প্রধানত যে রক্ষণাবেক্ষণগুলো দরকার হয়, সেগুলো হলো – টায়ার, ব্রেক (যদিও অনেক কম), কেবিন এয়ার ফিল্টার, এবং ব্যাটারির জন্য কুল্যান্ট। এইগুলো মূলত যে কোনো গাড়ির জন্যই প্রয়োজন হয়।আমার নিজের দেখা অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, সবচেয়ে বেশি যে জিনিসটা বদলাতে হয়, সেটা হলো টায়ার। ইলেকট্রিক গাড়িগুলোর তাৎক্ষণিক টর্ক (torque) বেশি হওয়ায় এবং ব্যাটারির কারণে ওজন কিছুটা বেশি হওয়ায় টায়ার দ্রুত ক্ষয় হতে পারে। তাই নিয়মিত টায়ার রোটেশন এবং অ্যালাইনমেন্ট করানোটা জরুরি। এছাড়াও, কেবিন এয়ার ফিল্টার প্রায় প্রতি বছর বা ১৮,০০০ মাইল পর বদলানো দরকার হতে পারে, যার খরচ খুব বেশি নয়, প্রায় ১০-২০ ডলারের মতো। নিসান লিফ-এর জন্য বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ খরচ গড়ে প্রায় $748 হতে পারে, যদিও অন্যান্য ইলেকট্রিক গাড়ির তুলনায় এটা কিছুটা বেশি। কিন্তু এরপরও পেট্রোল গাড়ির বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণের চেয়ে এটা বেশ সাশ্রয়ী। ব্রেক ফ্লুইড এবং রিডাকশন গিয়ার অয়েল নির্দিষ্ট সময় পর পর পরীক্ষা বা বদলানোর দরকার হয়, যা গাড়ির ম্যানুয়ালে উল্লেখ থাকে। কুল্যান্টের ক্ষেত্রে, নিসান লিফ-এর ফ্যাক্টরি-ফিল কুল্যান্ট ১৫ বছর বা ২ লাখ কিমি পর্যন্ত চলতে পারে, আর পরবর্তীতে প্রতি ৪ বছর বা ৮০,০০০ কিমি পর বদলাতে হয়। তাই সব মিলিয়ে, সাধারণ রক্ষণাবেক্ষণের খরচ নিয়ে নিসান লিফ আপনাকে হতাশ করবে না, বরং পকেট বাঁচাবে।

প্র: নিসান লিফ-এর ব্যাটারির আয়ুষ্কাল কেমন এবং ব্যাটারি বদলানোর খরচ কি সত্যিই অনেক বেশি?

উ: ইলেকট্রিক গাড়ি নিয়ে সবচেয়ে বড় যে চিন্তাটা সবার মনে আসে, সেটা হলো ব্যাটারির আয়ু এবং বদলানোর খরচ। এটা নিয়ে আমিও প্রথম দিকে একটু সংশয়ে ছিলাম। তবে জেনে রাখুন, নিসান লিফ-এর ব্যাটারি গড়ে প্রায় ১০ বছর পর্যন্ত সার্ভিস দিতে পারে। আর আধুনিক নিসান লিফ মডেলগুলোর ব্যাটারি তো ২০ বছরেরও বেশি টিকে থাকার সম্ভাবনা রাখে!
কিন্তু এই আয়ুষ্কাল নির্ভর করে কিছু বিষয়ের ওপর, যেমন – আপনি কোন জলবায়ুতে গাড়ি চালাচ্ছেন, আপনার চার্জিং অভ্যাস কেমন, আর ড্রাইভিং স্টাইল কী রকম। অতিরিক্ত গরম আবহাওয়া ব্যাটারির আয়ু কমাতে পারে।এবার আসি খরচের কথায়। হ্যাঁ, ব্যাটারি বদলানোর খরচটা একটু বেশিই হয়, এটা স্বীকার করতেই হবে। পুরনো ২৪ kWh ব্যাটারির জন্য প্রায় $3,000 থেকে $6,500 পর্যন্ত লাগতে পারে। আর যদি আপনি নতুন ৪০ kWh বা ৬২ kWh ব্যাটারি প্যাক নিতে চান, সেক্ষেত্রে খরচ $6,500 থেকে $9,500 পর্যন্ত হতে পারে, সাথে ইনস্টলেশন খরচ তো আছেই। আমার এক বন্ধু তার পুরনো লিফ-এর ব্যাটারি বদলানোর কথা ভাবছিলেন, পরে তিনি খোঁজ নিয়ে জানলেন যে রিফার্বিশড (refurbished) ব্যাটারিও পাওয়া যায়, যা নতুন ব্যাটারির চেয়ে কিছুটা সাশ্রয়ী।তবে চিন্তার কিছু নেই!
বেশিরভাগ নিসান লিফ-এর ব্যাটারিতে ৮ বছর বা ১ লাখ মাইল পর্যন্ত ওয়ারেন্টি থাকে (৩০ ও ৪০ kWh মডেলের জন্য)। তাই ওয়ারেন্টির মধ্যে থাকলে ব্যাটারি সংক্রান্ত সমস্যায় আপনাকে তেমন চিন্তা করতে হবে না। প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে ব্যাটারির দামও ধীরে ধীরে কমছে, এবং রিফার্বিশড ব্যাটারির বিকল্পও বাড়ছে। তাই, ব্যাটারি বদলানোর খরচটা একবারে অনেক মনে হলেও, এর আয়ুষ্কাল এবং ওয়ারেন্টির সুবিধা বিবেচনা করলে এটা দীর্ঘমেয়াদে একটি ভালো বিনিয়োগ।

📚 তথ্যসূত্র

Advertisement