Nissan Ariya বনাম Kia EV6: আপনার স্বপ্নের EV কোনটি? কেনার আগে এই ৯টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানুন!

webmaster

니산 아리아와 기아 EV6 비교 - 3-inch integrated screens display soft, futuristic graphics, and the Zero Gravity seats appear invit...

ইলেকট্রিক গাড়ির দুনিয়ায় এখন যেন এক নতুন ঝড় উঠেছে, তাই না? চারপাশে তাকালেই দেখা যাচ্ছে পরিবেশবান্ধব এই যানগুলোর প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। আমার মতো, আপনারও নিশ্চয়ই মনে হচ্ছে, ভবিষ্যতে আমাদের যাতায়াত ব্যবস্থা পুরোপুরি বদলে যেতে চলেছে!

বিশেষ করে, আধুনিক ডিজাইন আর অত্যাধুনিক প্রযুক্তির নিসান আরিয়া এবং কিয়া ইভি৬—এই দুটো গাড়ি নিয়ে তো প্রায়শই আলোচনা হচ্ছে। অনেকেই ভাবছেন, কোনটা সেরা? কোনটা আপনার জন্য বেশি উপযোগী হবে?

আমি নিজেও যখন প্রথম এই গাড়িগুলো নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি শুরু করেছিলাম, তখন এদের চোখ ধাঁধানো লুক আর পারফরম্যান্স দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম। দীর্ঘ রেঞ্জের ব্যাটারি, দ্রুত চার্জিং, আর স্মার্ট ফিচার্স—সব মিলিয়ে এই গাড়িগুলো যেন আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে আরও সহজ আর রোমাঞ্চকর করে তোলার জন্য তৈরি। চলুন, আজকের পোস্টে আমরা এই দুটো জনপ্রিয় ইলেকট্রিক ভেহিকল, অর্থাৎ নিসান আরিয়া এবং কিয়া ইভি৬-এর খুঁটিনাটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। এই দুটো গাড়ির মধ্যে কে কাকে টেক্কা দিচ্ছে, আর আপনার পকেটের স্বাস্থ্যের জন্য কোনটা বেশি ভালো হবে—সবকিছু একদম সহজভাবে জেনে নেব।তাহলে আর দেরি কেন, চলুন এই দুটি গাড়ির বিস্তারিত তুলনা দেখে নিই!

তাহলে আর দেরি কেন, চলুন এই দুটি গাড়ির বিস্তারিত তুলনা দেখে নিই!

গাড়ির চেহারা আর ডিজাইন দর্শন

니산 아리아와 기아 EV6 비교 - 3-inch integrated screens display soft, futuristic graphics, and the Zero Gravity seats appear invit...

নিসান আরিয়ার নজরকাড়া ডিজাইন

আমি যখন প্রথম নিসান আরিয়া (Nissan Ariya) দেখেছিলাম, তখন এর মসৃণ, আধুনিক এবং একইসাথে ভবিষ্যতের ছোঁয়া লাগা ডিজাইন আমাকে বেশ মুগ্ধ করেছিল। গাড়ির সামনের অংশের V-Motion গ্রিল, যা এখন প্রায় নিসান (Nissan)-এর ট্রেডমার্ক, সেটিকে এখানে একটি নতুন ইলেকট্রিক ভেহিকল (EV) লুকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। LED হেডলাইটগুলো এতটাই সরু আর তীক্ষ্ণ যে, গাড়ির লুকে একটা দারুণ এ্যারোডাইনামিক অনুভূতি দেয়। পাশের দিক থেকে দেখলে এর কোঁকড়ানো রেখাগুলো একটা কুপে-এসইউভি (coupe-SUV) ফিলিংস দেয়, যা সচরাচর ইলেকট্রিক গাড়ির ক্ষেত্রে দেখা যায় না। পেছনের দিকে একটানা লাইটবারটা গাড়ির প্রস্থকে আরও বেশি করে তুলে ধরে, যা রাতে দেখতে দুর্দান্ত লাগে। আমার মনে হয়, যারা একটু মার্জিত এবং টেকসই ডিজাইন পছন্দ করেন, তাদের জন্য নিসান আরিয়া একটি দারুণ পছন্দ। এটি শুধু একটি গাড়ি নয়, বরং একটি চলমান শিল্পকর্ম, যা রাস্তার প্রতিটি মোড়ে নজর কাড়তে বাধ্য। এর ডিজাইন শুধু দেখতেই সুন্দর নয়, ব্যবহারিক দিক থেকেও বাতাস কেটে চলার জন্য অপ্টিমাইজ করা হয়েছে, যা ব্যাটারির রেঞ্জ বাড়াতে সাহায্য করে।

কিয়া ইভি৬ এর সাহসী আর স্পোর্টি লুক

অন্যদিকে, কিয়া ইভি৬ (Kia EV6) যখন আমি প্রথম দেখলাম, তখন মনে হলো যেন কোনো সাইফাই (sci-fi) সিনেমা থেকে বেরিয়ে এসেছে! এর ডিজাইনটা এতটাই সাহসী আর অগোছালো যে, প্রথম দেখাতেই একটা ধাক্কা খাবেন। কিয়া (Kia)-এর নতুন ডিজাইন ফিলোসফি ‘অপোজিটস ইউনাইটেড’ (Opposites United) এখানে স্পষ্ট। গাড়ির সামনের দিকের ‘ডিজিটাল টাইগার ফেস’ গ্রিল এবং পেছনের দিকের ইউনিক লাইট সিগনেচার, যা ‘উইং-টাইপ’ ডেটাইম রানিং লাইট (DRL) নামে পরিচিত, সেগুলোর কারণে এটি অন্যদের থেকে একদম আলাদা। এর নীচের দিকে থাকা শার্প লাইনগুলো এবং পিছনের স্পয়লারটা গাড়িকে একটা দারুণ স্পোর্টি লুক দিয়েছে। ইভি৬ (EV6) এর নিচু ছাদ আর লম্বা হুইলবেস (wheelbase) একে শুধু দেখতেই স্পোর্টি করে তোলেনি, বরং রাস্তায় দারুণ গ্রিপ আর স্থায়িত্বও দেয়। যারা একটু ভিন্ন, গতিশীল এবং তারুণ্যপূর্ণ ডিজাইন পছন্দ করেন, যারা ভিড়ের মধ্যে নিজেদের আলাদাভাবে চেনাতে চান, তাদের জন্য কিয়া ইভি৬ (Kia EV6) একটি চমৎকার অপশন হতে পারে। এটি যেন ভবিষ্যতের গাড়ির একটি ঝলক, যা বর্তমানের রাস্তায় রাজত্ব করছে।

কর্মক্ষমতা ও ড্রাইভিং গতিশীলতা

নিসান আরিয়ার মসৃণ ড্রাইভিং অভিজ্ঞতা

নিসান আরিয়া (Nissan Ariya)-র ড্রাইভিং অভিজ্ঞতাটা আমার কাছে বেশ মসৃণ আর পরিশীলিত মনে হয়েছে। রাস্তাঘাটে যখন চালাচ্ছিলাম, তখন মনে হচ্ছিল যেন বাতাস কেটে চলে যাচ্ছি, এতটাই শান্ত আর নিস্তব্ধ এর কেবিন। এর সাসপেনশন (suspension) সিস্টেমটা এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যে, খারাপ রাস্তায়ও ঝাঁকুনি খুব কম লাগে, যা লম্বা যাত্রার জন্য খুবই আরামদায়ক। দুটো অপশন আছে: একটা সিঙ্গেল মোটর ফ্রন্ট-হুইল ড্রাইভ (FWD) এবং আরেকটা ডুয়াল মোটর ই-৪আর্স (e-4ORCE) অল-হুইল ড্রাইভ (AWD)। আমি ব্যক্তিগতভাবে ই-৪আর্স (e-4ORCE) মডেলটা চালিয়েছি এবং এর টর্ক ডেলিভারি আর গ্রিপ সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে বা পিচ্ছিল রাস্তায় এর নিয়ন্ত্রণ অসাধারণ। ০ থেকে ১০০ কিমি/ঘণ্টা গতি তুলতে এর সময় লাগে প্রায় ৫ সেকেন্ডের মতো, যা একটি ফ্যামিলি এসইউভি (SUV) হিসাবে যথেষ্ট ভালো। এর স্টিয়ারিং (steering) বেশ হালকা হলেও, প্রয়োজনের সময় যথেষ্ট ফিডব্যাক দেয়, যা ড্রাইভারকে আত্মবিশ্বাস যোগায়।

কিয়া ইভি৬ এর বিদ্যুৎগতির পারফরম্যান্স

কিয়া ইভি৬ (Kia EV6) এর ক্ষেত্রে পারফরম্যান্সটা যেন আরও এক ধাপ এগিয়ে! এর ইলেকট্রিক গতির অভিজ্ঞতাটা একদম অন্যরকম। যখনই অ্যাক্সেলারেটরে (accelerator) পা দিয়েছি, মনে হয়েছে যেন কোনো রকেট লঞ্চ হচ্ছে!

এর GT ভ্যারিয়েন্টটি তো মাত্র ৩.৫ সেকেন্ডে ০ থেকে ১০০ কিমি/ঘণ্টা গতি ছুঁতে পারে, যা স্পোর্টস কারকেও হার মানায়। এর পেছনে মূলত E-GMP প্ল্যাটফর্মের অবদান, যা গাড়িটিকে দারুণ স্টেবিলিটি আর হ্যান্ডলিং (handling) দিয়েছে। কর্নারিং (cornering) করার সময় এর বডি রোল (body roll) প্রায় বুঝতেই পারিনি। স্পোর্টি সাসপেনশনটা হয়তো আরিয়ার (Ariya) মতো অতটা আরামদায়ক নয়, কিন্তু এর পরিবর্তে পাওয়া যায় অবিশ্বাস্য রেসপনসিভনেস (responsiveness) এবং ড্রাইভিং মজা। যারা গাড়ি চালাতে ভালোবাসেন, যারা প্রতিটি মোড়ে গতির রোমাঞ্চ অনুভব করতে চান, তাদের জন্য কিয়া ইভি৬ (Kia EV6) একটি নিখুঁত প্যাকেজ। এটি আপনাকে প্রতিদিনের যাতায়াতকে আরও বেশি আনন্দময় করে তুলবে, এটা আমার নিশ্চিত ধারণা।

Advertisement

কেবিনের আরাম ও আধুনিক প্রযুক্তি

আরিয়ার প্রিমিয়াম অনুভূতি ও শান্ত কেবিন

নিসান আরিয়া (Nissan Ariya) এর কেবিনে প্রবেশ করলেই একটা প্রিমিয়াম আর খোলামেলা অনুভূতি হয়। এর ফিনিশিং (finishing) আর উপকরণের মান এতটাই ভালো যে, মনে হবে আপনি যেন একটি লাক্সারি (luxury) গাড়িতে বসে আছেন। ড্যাশবোর্ডের ডিজাইনটা বেশ মিনিমালিস্টিক (minimalistic), দুটো ১২.৩ ইঞ্চির স্ক্রিন একটানা জুড়ে দেওয়া হয়েছে, যা দেখতে দারুণ লাগে। ফিজিক্যাল বাটন (physical button) এর বদলে হ্যাপটিক ফিডব্যাক (haptic feedback) সহ টাচ কন্ট্রোল (touch control) ব্যবহার করা হয়েছে, যা আধুনিকতার ছোঁয়া যোগ করেছে। বিশেষ করে এর জিরো গ্রাভিটি সিটগুলো (Zero Gravity seats) এতটাই আরামদায়ক যে, দীর্ঘ যাত্রাতেও ক্লান্তি আসে না। পিছনের সিটেও পায়ের জন্য যথেষ্ট জায়গা আছে, যা পরিবারের সদস্যদের জন্য খুব জরুরি। কেবিনের সাউন্ড ইনসুলেশন (sound insulation) এত ভালো যে, বাইরের কোলাহল প্রায় শুনতেই পাওয়া যায় না, ফলে একটা শান্ত আর আরামদায়ক পরিবেশ বজায় থাকে। এর প্রশস্ত প্যানোরামিক সানরুফ (panoramic sunroof) কেবিনকে আরও উজ্জ্বল ও খোলামেলা করে তোলে।

ইভি৬ এর টেক-স্যাভি স্পেস ও স্পোর্টি ইন্টেরিয়র

কিয়া ইভি৬ (Kia EV6) এর কেবিনে ঢুকলে একটা ভিন্ন অনুভূতি হয়—এখানে আরামের পাশাপাশি প্রযুক্তির ছোঁয়াটা আরও বেশি স্পষ্ট। এর ডিজাইনটা আরিয়ার (Ariya) মতো অতটা প্রিমিয়াম বা বিলাসবহুল না হলেও, বেশ আধুনিক এবং কার্যকরী। এখানেও দুটো ১২.৩ ইঞ্চির স্ক্রিন একসঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে, যা ইনফোটেইনমেন্ট (infotainment) এবং ড্রাইভার ডিসপ্লে (driver display) হিসাবে কাজ করে। সেন্টার কনসোলটা (center console) বেশ ফ্লোটিং ডিজাইনের, যা কেবিনে আরও বেশি জায়গা তৈরি করে। ইভি৬ (EV6) এ ‘ভেগান লেদার’ (vegan leather) সিট অপশন পাওয়া যায়, যা পরিবেশ সচেতনতার একটি দারুণ উদাহরণ। সিটগুলো বেশ সাপোর্টিভ (supportive) এবং স্পোর্টি (sporty)। পিছনের সিটে যদিও আরিয়ার (Ariya) মতো অতটা লেগরুম (legroom) নেই, তবে মাঝারি উচ্চতার মানুষের জন্য যথেষ্ট। ইভি৬ (EV6) এ ভেহিকল-টু-লোড (V2L) ফাংশন আছে, যার মাধ্যমে গাড়ির ব্যাটারি থেকে বাইরের ইলেকট্রিক্যাল ডিভাইস (electrical device) চালানো যায়, যা সত্যিই একটি বিপ্লবী ফিচার (feature)। এর হরম্যান/কার্ডন (Harman/Kardon) সাউন্ড সিস্টেমটা (sound system) গান শোনার অভিজ্ঞতাকে আরও দারুণ করে তোলে।

ব্যাটারি এবং চার্জিং এর খুঁটিনাটি

আরিয়ার ব্যাটারি রেঞ্জ ও চার্জিং এর গতি

নিসান আরিয়া (Nissan Ariya) সাধারণত দুটো ব্যাটারি প্যাক (battery pack) অপশনে আসে: ৬৩ kWh এবং ৮৭ kWh। আমি ব্যক্তিগতভাবে ৮৭ kWh মডেলটি নিয়ে বেশ সন্তুষ্ট ছিলাম, কারণ একবার ফুল চার্জে প্রায় ৫০০ কিলোমিটারের বেশি চালানো যায়, যা দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য যথেষ্টর বেশি। এটি ডিসি ফাস্ট চার্জিং (DC fast charging) সাপোর্ট করে ১৩০ kW পর্যন্ত, যার মানে মাত্র ৩০-৩৫ মিনিটে ১০% থেকে ৮০% চার্জ হয়ে যায়। আমার মতে, এই চার্জিং স্পিডটা খারাপ নয়, কিন্তু কিয়া (Kia)-এর মতো দ্রুত নয়। বাসায় AC চার্জিং এর জন্য ৭.২ kW বা ১১ kW অনবোর্ড চার্জার (onboard charger) ব্যবহার করা যায়, যা রাতভর চার্জ করে সকালে গাড়ি ফুল চার্জে পাওয়ার জন্য আদর্শ। রেঞ্জের দিক থেকে নিসান (Nissan) বেশ ভালো অপশন দিচ্ছে, বিশেষ করে যারা একটু লম্বা রুটে যাতায়াত করেন তাদের জন্য এটা খুব জরুরি একটা বিষয়। আমি যখন একটা লং ট্রিপে গিয়েছিলাম, তখন চার্জিং নিয়ে খুব একটা দুশ্চিন্তা করতে হয়নি।

ইভি৬ এর অতি দ্রুত চার্জিং ও রেঞ্জ

কিয়া ইভি৬ (Kia EV6) এখানে যেন এক কদম এগিয়ে। এটি E-GMP প্ল্যাটফর্মের কারণে ৮০০V আর্কিটেকচার (architecture) ব্যবহার করে, যা আল্ট্রা-ফাস্ট চার্জিং (ultra-fast charging) সক্ষমতা দেয়। মানে, ২৫০ kW এর ডিসি ফাস্ট চার্জারে (DC fast charger) মাত্র ১৮ মিনিটে ১০% থেকে ৮০% চার্জ করা সম্ভব!

এটা সত্যি অবিশ্বাস্য। এর ৭৭.৪ kWh ব্যাটারি প্যাক একবার ফুল চার্জে প্রায় ৫১০ কিলোমিটার পর্যন্ত যেতে পারে। যদিও আরিয়ার (Ariya) ৮৭ kWh ব্যাটারির রেঞ্জের কাছাকাছি, তবে চার্জিং স্পিডের দিক থেকে ইভি৬ (EV6) অনেক এগিয়ে। যাদের সময় কম এবং যারা দ্রুত চার্জ করে পথে নামতে চান, তাদের জন্য ইভি৬ (EV6) একটি দুর্দান্ত পছন্দ। আমি যখন অল্প সময়ের জন্য বাইরে ছিলাম, তখন দেখেছি কিভাবে অল্প সময়েই অনেকটা চার্জ করে নেওয়া যায়। এটা সত্যিই ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যবহারকে আরও সহজ করে তুলেছে। কিয়া (Kia) এই দিকটায় বেশ দারুণ কাজ করেছে।

Advertisement

নিরাপত্তা ফিচার্স এবং ভরসার ঠিকানা

নিসান আরিয়ার সুরক্ষা ব্যবস্থা

নিসান আরিয়া (Nissan Ariya)-তে আধুনিক নিরাপত্তা ফিচার্স (safety features) এর কোনো অভাব নেই। নিসান (Nissan) তাদের ‘প্রোপাইলট অ্যাসিস্ট ২.০’ (ProPILOT Assist 2.0) সিস্টেমের মাধ্যমে ড্রাইভিং অভিজ্ঞতাকে আরও নিরাপদ আর আরামদায়ক করে তুলেছে। এই সিস্টেমটি অ্যাডাপ্টিভ ক্রুজ কন্ট্রোল (adaptive cruise control), লেন কিপিং অ্যাসিস্ট (lane keeping assist) এবং সেমি-অটোনমাস ড্রাইভিং (semi-autonomous driving) এর মতো ফিচার্স (features) অফার করে। এছাড়াও, ব্লাইন্ড স্পট মনিটরিং (blind spot monitoring), রিয়ার ক্রস ট্র্যাফিক এলার্ট (rear cross traffic alert), এবং ইমার্জেন্সি ব্রেকিং (emergency braking) এর মতো স্ট্যান্ডার্ড ফিচার্সগুলো তো আছেই। আমার মনে হয়, এই ফিচার্সগুলো বিশেষ করে শহরের জ্যামে এবং হাইওয়েতে লম্বা যাত্রায় বেশ সহায়ক। গাড়ি যখন লেন (lane) পরিবর্তন করতে যাচ্ছিল, তখন ব্লাইন্ড স্পট মনিটরিংটা খুব কাজে লেগেছিল। সামগ্রিকভাবে, আরিয়া (Ariya) আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা রেখেছে।

কিয়া ইভি৬ এর স্মার্ট সুরক্ষা ফিচার্স

কিয়া ইভি৬ (Kia EV6)ও নিরাপত্তার দিক থেকে কোনো অংশে পিছিয়ে নেই। কিয়া (Kia)-এর ‘ড্রাইভওয়াইজ’ (DriveWise) স্যুট (suite) এখানে সমস্ত আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি নিয়ে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে হাইওয়ে ড্রাইভিং অ্যাসিস্ট ২ (Highway Driving Assist 2), যা সেমি-অটোনমাস ড্রাইভিংয়ে (semi-autonomous driving) খুব কার্যকর। ফরওয়ার্ড কলিশন এভয়ডেন্স অ্যাসিস্ট (Forward Collision-Avoidance Assist) শুধু গাড়িকেই নয়, পথচারী এবং সাইকেল আরোহীদেরও শনাক্ত করতে পারে। এছাড়াও, লেন কিপিং অ্যাসিস্ট (lane keeping assist), রিয়ার ভিউ মনিটর (rear view monitor), এবং সারাউন্ড ভিউ মনিটর (surround view monitor) এর মতো ফিচার্সগুলো পার্কিং (parking) এবং জ্যামে গাড়ি চালানোর সময় বেশ সুবিধা দেয়। ইভি৬ (EV6) এ একটি দারুণ ফিচার (feature) আছে— ‘রিমোট স্মার্ট পার্কিং অ্যাসিস্ট’ (Remote Smart Parking Assist), যার মাধ্যমে আপনি গাড়ির বাইরে থেকে রিমোট (remote) দিয়ে গাড়ি পার্ক (park) বা আনপার্ক (unpark) করতে পারবেন। এটা সত্যিই ভিড়ের জায়গায় বা সরু গ্যারেজে (garage) খুব কাজে দেয়।

মূল্য এবং মালিকানার খরচ

আরিয়ার মূল্য কাঠামো ও বিনিয়োগ

নিসান আরিয়া (Nissan Ariya)-র মূল্য সাধারণত এর ব্যাটারি প্যাক (battery pack) এবং ড্রাইভট্রেইন (drivetrain) অপশনের ওপর নির্ভর করে। এটি একটি প্রিমিয়াম (premium) ইলেকট্রিক এসইউভি (SUV) হওয়ায় এর বেস মডেলের দাম কিছুটা বেশি হতে পারে, তবে এর বিনিময়ে আপনি একটি অত্যন্ত আরামদায়ক, স্টাইলিশ (stylish) এবং প্রযুক্তিসমৃদ্ধ গাড়ি পাচ্ছেন। আমার মনে হয়, এর দীর্ঘমেয়াদী মালিকানার খরচ তুলনামূলকভাবে কম হবে, কারণ ইলেকট্রিক গাড়ি হওয়ায় ফুয়েল ক (fuel cost) বাঁচবে এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচও কম। সরকারি প্রণোদনা বা ট্যাক্স বেনিফিট (tax benefit) থাকলে এই গাড়ির মূল্য আরও সাশ্রয়ী হতে পারে। প্রাথমিকভাবে বিনিয়োগ বেশি মনে হলেও, দীর্ঘকালীন দিক থেকে এটি একটি লাভজনক চুক্তি হতে পারে।

ইভি৬ এর প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক মূল্য ও সুবিধা

কিয়া ইভি৬ (Kia EV6) এর মূল্য আরিয়ার (Ariya) মতোই প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক। এর বিভিন্ন ট্রিম (trim) লেভেল (level) এবং অপশন (option) অনুযায়ী দামের তারতম্য হয়। GT-Line (জিটি-লাইন) বা GT (জিটি) মডেলগুলো অবশ্য বেশ দামী হতে পারে, তবে এর বিপরীতে যে পারফরম্যান্স আর ফিচার্সগুলো পাওয়া যায়, তা অন্য কোনো গাড়িতে মেলা ভার। ইভি৬ (EV6) এর বিদ্যুৎগতির চার্জিং (charging) ক্ষমতা এবং V2L (ভি২এল) ফাংশনের মতো অনন্য ফিচার্সগুলো এর মূল্যকে যৌক্তিক করে তোলে। আমার মনে হয়, যারা একটু বেশি আধুনিক প্রযুক্তি এবং স্পোর্টি পারফরম্যান্স চান, তাদের জন্য ইভি৬ (EV6) একটি দারুণ বিনিয়োগ। ইলেকট্রিক গাড়ির সুবিধাগুলো বিবেচনা করলে, দীর্ঘমেয়াদে এর অপারেটিং খরচ (operating cost) পেট্রোল গাড়ির চেয়ে অনেক কম।

বৈশিষ্ট্য নিসান আরিয়া (Nissan Ariya) কিয়া ইভি৬ (Kia EV6)
ডিজাইন মার্জিত, মসৃণ, আধুনিক কুপে-এসইউভি লুক সাহসী, স্পোর্টি, ফিউচারিস্টিক ক্রশওভার
ব্যাটারি অপশন ৬৩ kWh, ৮৭ kWh ৭৭.৪ kWh (সাধারণত)
আনুমানিক রেঞ্জ প্রায় ৫০০ কিমি (৮৭ kWh মডেল) প্রায় ৫১০ কিমি (৭৭.৪ kWh মডেল)
ফাস্ট চার্জিং (DC) ১৩0 kW পর্যন্ত ২৫০ kW পর্যন্ত (১৮ মিনিটে ১০-৮০%)
০-১০০ কিমি/ঘণ্টা প্রায় ৫ সেকেন্ড (e-4ORCE AWD) ৩.৫ সেকেন্ড (GT মডেল)
কেবিন অনুভূতি প্রিমিয়াম, আরামদায়ক, শান্ত আধুনিক, টেক-স্যাভি, স্পোর্টি
বিশেষ ফিচার্স ProPILOT Assist 2.0, জিরো গ্রাভিটি সিট V2L ফাংশন, রিমোট স্মার্ট পার্কিং অ্যাসিস্ট
Advertisement

글을 마치며

শেষ পর্যন্ত, নিসান আরিয়া (Nissan Ariya) এবং কিয়া ইভি৬ (Kia EV6) দুটোই তাদের নিজস্ব ক্ষেত্রে দারুণ পারফর্মার এবং ইলেকট্রিক গাড়ির জগতে নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। আপনার চূড়ান্ত পছন্দ মূলত নির্ভর করবে আপনি একজন ড্রাইভার হিসেবে কী চান তার উপর – মসৃণতা, লাক্সারি, এবং আরামদায়ক অভিজ্ঞতা, নাকি বিদ্যুৎগতি, স্পোর্টি পারফরম্যান্স এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া। ব্যক্তিগতভাবে, আমি দুটোকেই তাদের বিশেষত্বের জন্য প্রশংসা করি এবং বিশ্বাস করি যে ইভি জগতে এদের ভূমিকা অপরিহার্য। আশা করি আমার এই তুলনামূলক আলোচনা আপনাকে আপনার জন্য সঠিক ইলেকট্রিক গাড়িটি বেছে নিতে সাহায্য করবে। ইলেকট্রিক গাড়ির এই নতুন প্রজন্ম আমাদের যাতায়াতের ধারণাকেই বদলে দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও আরও অনেক চমক নিয়ে আসবে।

알াাদুজন সুশজুক্বি তথ্য

১. আপনার দৈনন্দিন রুটে আশেপাশে কোথায় কোথায় ফাস্ট চার্জিং স্টেশন (fast charging station) আছে, তা আগে থেকে জেনে নিন। বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ (যেমন PlugShare) আপনাকে এই বিষয়ে সাহায্য করতে পারে, যা দীর্ঘ যাত্রায় আপনার সময় বাঁচাবে এবং দুশ্চিন্তা কমাবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে যেকোনো লং ট্রিপে বের হওয়ার আগে চার্জিং রুট ম্যাপ (route map) করে নিই।

২. ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যাটারি দীর্ঘস্থায়ী করতে সবসময় ৮০% পর্যন্ত চার্জ করার চেষ্টা করুন এবং ২০% এর নিচে নেমে গেলে চার্জ দিয়ে দিন। চরম তাপমাত্রা (খুব গরম বা খুব ঠান্ডা) থেকে গাড়ি দূরে রাখুন, কারণ এটি ব্যাটারির কার্যক্ষমতা প্রভাবিত করতে পারে। নিয়মিত ব্যাটারি হেলথ চেকআপ (battery health checkup) করানোটাও খুব জরুরি, যা গাড়ির আয়ু বাড়ায়।

৩. ইলেকট্রিক গাড়ি কেনার সময় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ট্যাক্স বেনিফিট (tax benefit) বা সাবসিডি (subsidy) আছে কিনা, তা ভালোভাবে জেনে নিন। আমাদের দেশে অনেক সময় নতুন প্রযুক্তির গাড়ি কেনার জন্য সরকার বিভিন্ন সুবিধা প্রদান করে থাকে, যা আপনার প্রাথমিক বিনিয়োগকে অনেকটাই কমিয়ে আনতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে আপনাকে আর্থিকভাবে লাভবান করবে।

৪. ইলেকট্রিক গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের খরচ পেট্রোল গাড়ির চেয়ে কম হয়, কারণ এতে কম চলমান যন্ত্রাংশ থাকে এবং নিয়মিত তেল পরিবর্তন বা স্পার্ক প্লাগ (spark plug) বদলানোর মতো খরচ নেই। তবে নিয়মিত টায়ার রোটেশন (tire rotation), ব্রেক ফ্লুইড চেক (brake fluid check) এবং সফটওয়্যার আপডেট (software update) জরুরি। এই বিষয়গুলো মাথায় রাখলে আপনার গাড়ির আয়ু বাড়বে এবং অপ্রত্যাশিত খরচ কমবে।

৫. ইলেকট্রিক গাড়ির জন্য বিশেষ ইনস্যুরেন্স (insurance) প্ল্যান থাকতে পারে। ব্যাটারি কভারেজ, চার্জিং ক্যাবল সুরক্ষা এবং রাস্তার পাশে সহায়তার মতো সুবিধাগুলো আছে কিনা, তা দেখে একটি উপযুক্ত ইনস্যুরেন্স প্ল্যান বেছে নিন। ইলেকট্রিক গাড়ির মেরামত খরচ অনেক সময় বেশি হয়, তাই সঠিক ইনস্যুরেন্স আপনাকে অপ্রত্যাশিত বড় খরচ থেকে রক্ষা করবে। আমি সবসময় বলি, ইনস্যুরেন্সের খুঁটিনাটি জেনে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।

Advertisement

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি

নিসান আরিয়া (Nissan Ariya) এবং কিয়া ইভি৬ (Kia EV6), এই দুটি ইলেকট্রিক গাড়িই আধুনিক প্রযুক্তি এবং ড্রাইভিং অভিজ্ঞতার এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। কিন্তু আপনার জন্য কোনটি সেরা, তা জানতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। আমার অভিজ্ঞতা থেকে আমি এই বিষয়গুলো খুব ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছি।

১. ডিজাইন ও স্টাইল:

যারা মার্জিত, প্রিমিয়াম এবং মসৃণ কুপে-এসইউভি (coupe-SUV) লুক পছন্দ করেন, তাদের জন্য নিসান আরিয়া (Nissan Ariya) আদর্শ। এর ভেতরের আরামদায়ক কেবিন আপনাকে দীর্ঘ যাত্রায় মুগ্ধ করবে। অন্যদিকে, সাহসী, স্পোর্টি এবং ফিউচারিস্টিক ডিজাইন যাদের পছন্দ, যারা ভিড়ের মধ্যে নিজেদের আলাদাভাবে চেনাতে চান, তাদের জন্য কিয়া ইভি৬ (Kia EV6) সেরা পছন্দ। আমার মতে, এটি কেবল গাড়ির বাইরের চেহারা নয়, আপনার ব্যক্তিত্বেরও প্রতিফলন ঘটাবে।

২. পারফরম্যান্স ও ড্রাইভিং অভিজ্ঞতা:

নিসান আরিয়া (Nissan Ariya) একটি শান্ত, মসৃণ এবং আরামদায়ক ড্রাইভিং অভিজ্ঞতা প্রদান করে, যা বিশেষ করে পারিবারিক যাতায়াতের জন্য নির্ভরযোগ্য গাড়ি খুঁজছেন এমন ব্যবহারকারীদের জন্য উপযুক্ত। যদি আপনি বিদ্যুৎগতির পারফরম্যান্স, তীক্ষ্ণ হ্যান্ডলিং এবং প্রতিটি মোড়ে রোমাঞ্চ অনুভব করতে চান, তাহলে কিয়া ইভি৬ (Kia EV6) আপনাকে নিরাশ করবে না। আমি নিজে চালিয়ে দেখেছি, গতিপ্রেমীদের জন্য ইভি৬ (EV6) সত্যিই এক অন্যরকম অনুভূতি দেয় এবং প্রতিদিনের ড্রাইভকে আরও আনন্দময় করে তোলে।

৩. চার্জিং গতি ও রেঞ্জ:

দুটো গাড়িরই রেঞ্জ বেশ ভালো, ৫০০ কিলোমিটারের কাছাকাছি, যা বেশিরভাগ দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট। তবে কিয়া ইভি৬ (Kia EV6) এর ৮০০V আর্কিটেকচার (architecture) অতি দ্রুত চার্জিংয়ে এগিয়ে, যা মাত্র ১৮ মিনিটে ১০% থেকে ৮০% চার্জ করতে পারে। যদি আপনার সময় অত্যন্ত মূল্যবান হয় এবং দ্রুত চার্জিং আপনার জন্য একটি জরুরি বিষয় হয়, তাহলে ইভি৬ (EV6) এখানে সুস্পষ্ট বিজয়ী। আরিয়া (Ariya) এর চার্জিং গতিও মন্দ নয়, তবে ইভি৬ (EV6) এক্ষেত্রে এগিয়ে।

৪. কেবিনের অনুভূতি ও প্রযুক্তি:

নিসান আরিয়া (Nissan Ariya)-তে আপনি পাবেন প্রিমিয়াম ফিনিশিং (finishing), জিরো গ্রাভিটি সিট (Zero Gravity seats) এবং একটি শান্ত কেবিন, যা দীর্ঘ যাত্রাকে অত্যন্ত আরামদায়ক করে তোলে। অন্যদিকে, কিয়া ইভি৬ (Kia EV6) এ রয়েছে একটি টেক-স্যাভি (tech-savvy) ইন্টেরিয়র, V2L (ভি২এল) ফাংশন এবং একটি স্পোর্টি অনুভূতি, যা আধুনিক গ্যাজেট (gadget) প্রেমীদের জন্য উপযুক্ত। এই দিকটায় আপনার অগ্রাধিকার কী, সেটার ওপরই আপনার সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।

৫. সামগ্রিক মূল্য ও বিনিয়োগ:

দুটোই প্রিমিয়াম ইলেকট্রিক গাড়ি, তাই প্রাথমিক বিনিয়োগ কিছুটা বেশি হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে কম অপারেটিং খরচ এবং আধুনিক ফিচারের কারণে দুটোই ভালো বিনিয়োগ। সরকারি প্রণোদনা এবং দীর্ঘমেয়াদী সুবিধাগুলো বিবেচনা করে আপনার বাজেট এবং প্রয়োজনীয়তার উপর ভিত্তি করে একটি সিদ্ধান্ত নিন। আমি সবসময় বলি, কেনার আগে গাড়িটি একবার চালিয়ে দেখা উচিত এবং নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖

প্র: নিসান আরিয়া এবং কিয়া ইভি৬-এর মধ্যে কোনটি রেঞ্জ এবং পারফরম্যান্সের দিক থেকে বেশি এগিয়ে?

উ: এই দুটি গাড়িই তাদের পারফরম্যান্স আর রেঞ্জের জন্য বেশ প্রশংসিত, তবে এদের নিজস্ব কিছু বিশেষত্ব আছে। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, কিয়া ইভি৬ তার স্পোর্টি ড্রাইভিং এক্সপেরিয়েন্স এবং দ্রুত এক্সিলারেশনের জন্য পরিচিত। হাইওয়েতে যখন গতি বাড়াতে হয়, তখন ইভি৬ সত্যিই মন জয় করে নেয়। কিছু ভেরিয়েন্টে এর 0-100 কিমি/ঘন্টা গতি মাত্র 3.2 সেকেন্ডে অর্জন করতে পারে। অন্যদিকে, নিসান আরিয়া আরামদায়ক রাইড আর প্রিমিয়াম ইন্টেরিয়রের জন্য দারুণ। রেঞ্জের দিক থেকে দুটোই বেশ ভালো পারফর্ম করে। কিয়া ইভি৬-এর লং-রেঞ্জ ব্যাটারি প্যাক সহ মডেলগুলো 310 থেকে 328 মাইল পর্যন্ত রেঞ্জ দিতে পারে। নিসান আরিয়াও তার 87 kWh ব্যাটারি মডেলের জন্য 310 মাইল পর্যন্ত রেঞ্জ প্রদান করে। আসল কথা হলো, আপনার ড্রাইভিং স্টাইল আর দৈনন্দিন ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে কোনটা আপনার জন্য ভালো হবে। আমি যখন কিয়া ইভি৬ চালিয়েছি, তখন এর গতি আর হ্যান্ডলিং আমাকে বেশ মুগ্ধ করেছে। আর আরিয়ার ভেতরে বসে যে আরাম পেয়েছি, তা অন্য কোনো গাড়িতে বিরল।

প্র: ইলেকট্রিক গাড়ির চার্জিং নিয়ে অনেকেরই চিন্তা থাকে, এই দুটি গাড়ির চার্জিং স্পিড এবং চার্জিং অপশনগুলো কেমন?

উ: চার্জিং কিন্তু ইলেকট্রিক গাড়ির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক, আর এই ক্ষেত্রে কিয়া ইভি৬ বেশ এগিয়ে। আমি দেখেছি, কিয়া ইভি৬ তার 800V আর্কিটেকচারের কারণে আল্ট্রা-ফাস্ট চার্জিংয়ে সত্যিই অসাধারণ। একটি 350 kW ফাস্ট চার্জারের মাধ্যমে এটি মাত্র 18 মিনিটে 10% থেকে 80% পর্যন্ত চার্জ হয়ে যেতে পারে, যা দীর্ঘ যাত্রায় খুব উপকারী। ভাবুন তো, কফি ব্রেক নিতে নিতেই আপনার গাড়ির চার্জ অনেকটাই হয়ে গেল!
নিসান আরিয়াও ফাস্ট চার্জিং সাপোর্ট করে, 130 kW DC চার্জিংয়ে 10% থেকে 80% চার্জ হতে প্রায় 35 থেকে 40 মিনিট সময় লাগে। তবে এটি কিয়া ইভি৬ এর মতো ততটা দ্রুত নাও হতে পারে কিছু ক্ষেত্রে। তবে হোম চার্জিংয়ের জন্য, অর্থাৎ বাড়িতে AC চার্জারের মাধ্যমে, দুটোই রাতারাতি চার্জ করা যায়—কিয়া ইভি৬ এর জন্য প্রায় 7-8 ঘন্টা এবং নিসান আরিয়ার জন্য 10.5 থেকে 14 ঘন্টা (ব্যাটারি সাইজ অনুযায়ী)। আমার পরামর্শ হলো, আপনার দৈনন্দিন রুটে চার্জিং স্টেশনগুলো একবার দেখে নিন। আমার নিজের অভিজ্ঞতা বলে, বাড়ির চার্জিংয়ের সুবিধে থাকলে চার্জিং নিয়ে আর কোনো চিন্তা থাকে না।

প্র: দাম এবং রক্ষণাবেক্ষণের দিক থেকে নিসান আরিয়া এবং কিয়া ইভি৬-এর মধ্যে কোনটি বেশি লাভজনক?

উ: দাম এবং রক্ষণাবেক্ষণ দুটোই গাড়ির মালিকানার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিসান আরিয়া এবং কিয়া ইভি৬, দুটোই প্রিমিয়াম ইলেকট্রিক এসইউভি সেগমেন্টে পড়ে, তাই এদের প্রাথমিক দাম কিছুটা বেশি হওয়া স্বাভাবিক। বাংলাদেশে কিয়া ইভি৬-এর দাম প্রায় 85 লক্ষ থেকে 1.1 কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে, আর নিসান আরিয়ার দাম 58 লক্ষ থেকে 91 লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তবে আমার অভিজ্ঞতা বলে, ইলেকট্রিক গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের খরচ পেট্রোল বা ডিজেল গাড়ির চেয়ে অনেক কম হয়। ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন, স্পার্ক প্লাগ বা টাইমিং বেল্টের মতো খরচগুলো ইলেকট্রিক গাড়িতে থাকে না। গবেষণা অনুযায়ী, ইলেকট্রিক গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণে প্রচলিত গাড়ির তুলনায় প্রায় 40% কম খরচ হয়। কিয়া ইভি৬ তার অত্যাধুনিক ডিজাইন আর পারফরম্যান্সের জন্য একটু বেশি দামি হতে পারে, কিন্তু এর রি-সেল ভ্যালুও বেশ ভালো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। নিসান আরিয়া হয়তো দামের দিক থেকে কিছুটা সাশ্রয়ী হতে পারে কিছু ভেরিয়েন্টে, তবে এর প্রিমিয়াম লুক আর টেকনোলজি এটাকে আকর্ষণীয় করে তোলে। সবচেয়ে বড় কথা, দীর্ঘমেয়াদী ফুয়েল কস্ট সাশ্রয় এবং সরকারি ইনসেনটিভ (যদি থাকে) বিবেচনা করলে ইলেকট্রিক গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত খুব বুদ্ধিমানের কাজ। আমার মতে, আপনি যদি দীর্ঘমেয়াদে কম খরচ চান, তাহলে ইলেকট্রিক গাড়ির দিকে তাকানোই ভালো। আর এই দুটো গাড়ির মধ্যে আপনার বাজেট আর পছন্দের ওপর নির্ভর করে সেরাটা বেছে নিন।